আগরতলা, ২৫ আগস্ট (হি.স.) : আগরতলা শহর-সহ লিচুবাগান, কোনাবন ও বিশালগড় এলাকায় একের পর এক বাইক ও স্কুটি চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল এনসিসি থানার পুলিশ। চুরি-কাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে লিচুবাগান এলাকা থেকে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে বাইক চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগরতলা শহর, লিচুবাগান, কোনাবন এবং বিশালগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরপর বাইক চুরির অভিযোগ সামনে আসছিল। ঘটনাগুলির তদন্তে নেমে এনসিসি থানার পুলিশ প্রথমে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই তদন্তকারীদের হাতে আরও এক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। এরপর তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি চালিয়ে সোমবার গভীর রাতে লিচুবাগান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি বাইক এবং একটি স্কুটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলির নথিপত্র ও মালিকানা যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীরা আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। পুলিশ সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত ব্যক্তি উদ্ধার হওয়া বাইকটি তাঁর মামার বলে দাবি করে। তবে পুলিশ স্ক্যান রিপোর্টের মাধ্যমে গাড়িটির তথ্য যাচাই করে দেখতে পায়, উদ্ধার হওয়া স্কুটিটি অন্য এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত রয়েছে।
এই তথ্য সামনে আসার পর তদন্তকারীরা ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে বাইক ও স্কুটি চুরির ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলি কোন কোন চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার এনসিসি থানার ওসি পরিতোষ দাস জানান, বাইক চুরির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে তোলা হয়। তাকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি হওয়া আরও বাইক কিংবা স্কুটির সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ধারণা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া যানবাহনের সূত্র ধরে বাইক চুরির ঘটনাগুলির নেপথ্যে থাকা পুরো চক্রের আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে। চুরি যাওয়া অন্যান্য বাইক ও স্কুটির সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এনসিসি থানার পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ


