দেহরাদূন : উত্তরাখণ্ডে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়ছে। ঋষিকেশে গঙ্গার জলস্তর সতর্কতা সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। আগামী পাঁচ দিন রাজ্যের পার্বত্য এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৪ আগস্ট রাজ্যের পার্বত্য জেলাগুলির কয়েকটি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তীব্র থেকে অতি তীব্র বৃষ্টি হতে পারে। দেহরাদূন, পিথোরাগড়, নৈনিতাল ও বাগেশ্বরে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হরিদ্বার ও উধমসিংহ নগরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
২৫ আগস্টও পার্বত্য এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তীব্র থেকে অতি তীব্র বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৬, ২৭ ও ২৮ আগস্টও একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। এর আগে ২৩ আগস্ট দেহরাদুন, উত্তরকাশী, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি, নৈনিতাল ও বাগেশ্বরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
লাগাতার বৃষ্টির জেরে পার্বত্য এলাকায় ভূমিধস, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নদী-নালার জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্য আপৎকালীন পরিচালন কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দফতর ও বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য সতর্ক করেছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পাশাপাশি সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজ্য আপৎকালীন পরিচালন কেন্দ্রের সোমবার সকালের জলস্তর ও বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঋষিকেশে গঙ্গার জলস্তর ৩৩৮.৯৮ মিটার। সতর্কতা সীমা ৩৩৯.৫০ মিটার। অর্থাৎ সতর্কতা সীমার মাত্র ০.৫২ মিটার নীচে রয়েছে জলস্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং জলস্তর বাড়ার প্রবণতা রয়েছে।
হরিদ্বারে গঙ্গার জলস্তর ২৯১.৮৬ মিটার। সেখানে সতর্কতা সীমা ২৯৩ মিটার এবং বিপদসীমা ২৯৪ মিটার। দেবপ্রয়াগে গঙ্গার জলস্তর ৪৫৬.৮২ মিটার। শ্রীনগরে অলকানন্দার জলস্তর ৫৩৩.৪০ মিটার, যেখানে সতর্কতা সীমা ৫৩৫ মিটার।
বদ্রীনাথে অলকানন্দার জলস্তর ৩১১১.৪২ মিটার, জোশীমঠে ১৩৭৪.৯২ মিটার এবং রুদ্রপ্রয়াগে ৬২৪.৭৫ মিটার রয়েছে। নন্দকেশরীতে পিণ্ডর নদীর জলস্তর ১২৬৪.১০ মিটার এবং কর্ণপ্রয়াগে ৭৬৯.১৪ মিটার। এই সব জায়গাতেই জলস্তর এখনও বিপদসীমার নীচে রয়েছে।
ধারচুলায় কালী নদীর জলস্তর ৮৮৮.৬০ মিটার। সতর্কতা সীমা ৮৮৯ মিটার হওয়ায় সেটিও মাত্র ০.৪০ মিটার নীচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং জলস্তর স্থিতিশীল রয়েছে। জৌলজীবিতে গৌরী নদীর জলস্তর ৬০৪.৪০ মিটার এবং তা বাড়ার প্রবণতা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগর, ঋষিকেশ, হরিদ্বার ও রামনগরকে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হরিদ্বারের ভীমগোড়া ব্যারাজে গঙ্গার জলস্তর ২৯১.৯৫ মিটার এবং জলপ্রবাহ ৭৮,৯৫৩ কিউসেক। ঋষিকেশের বীরভদ্র ব্যারাজে জলস্তর ৩৩৪.১০ মিটার এবং জলপ্রবাহ ৮৩,৭৩১.৮৭ কিউসেক রেকর্ড হয়েছে।
রামনগরের কোসি ব্যারাজে জলস্তর ৩৫১.৮০ মিটার ও জলপ্রবাহ ২,৭০৩ কিউসেক এবং হালদোয়ানির গোলা ব্যারাজে জলস্তর ৫০২.০৯ মিটার ও জলপ্রবাহ ১,২৪৯ কিউসেক রেকর্ড হয়েছে। মানেরি ড্যামে জলস্তর ১২৯১.৩০ মিটার, জোশিয়াড়ায় ১১০৭.১০ মিটার, ইছাড়ি ড্যামে ৬৪৪.৭০ মিটার, আসন ব্যারাজে ৪০০.৮০ মিটার এবং ব্যাসি ড্যামে ৬২৭.৯৫ মিটার রয়েছে।





