উজ্জ্বয়িনী, ২৩ আগস্ট (হি.স.) : শ্রাবণ শুক্লপক্ষের পুত্রদা একাদশী তিথিতে রবিবার ভোরে ভস্ম আরতির সময় রাজসাজে সজ্জিত হলেন উজ্জ্বয়িনীর বিশ্বখ্যাত জ্যোতির্লিঙ্গ ভগবান মহাকালেশ্বর। মহাকালের মস্তকে ভাং, চন্দন ও ত্রিপুণ্ড অর্পণের পর শুকনো ফল, অলঙ্কার এবং সুগন্ধি ফুল দিয়ে বিশেষ সাজসজ্জা করা হয়। এদিন বিপুল সংখ্যক ভক্ত মন্দিরে এসে মহাকালের দর্শন করেন। ‘জয় শ্রী মহাকাল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।
মহাকালেশ্বর মন্দিরের পুরোহিত পণ্ডিত মহেশ শর্মা জানান, রবিবার ভোর ৩টেয় ভস্ম আরতির জন্য মন্দিরের দরজা খোলা হয়। দরজা খোলার পর পুরোহিতরা গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত দেববিগ্রহের পুজো করেন। এরপর মহাকালের জলাভিষেকের পর দুধ, দই, ঘি, চিনি ও ফলের রস দিয়ে তৈরি পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক করা হয়। প্রথম ঘণ্টাধ্বনির পর বাবাকে হরিওমের জল অর্পণ করা হয়।
কর্পূর আরতির পর মহাকালের মস্তকে ভাং, চন্দন ও ত্রিপুণ্ড অর্পণ করে বিশেষ শৃঙ্গার করা হয়। সাজসজ্জা সম্পূর্ণ হওয়ার পর জ্যোতির্লিঙ্গ কাপড় দিয়ে ঢেকে ভস্ম অর্পণ করা হয়। মহানির্বাণী আখড়ার পক্ষ থেকে মহাকালকে ভস্ম অর্পণ করা হয়। এরপর ভাং, শুকনো ফল, চন্দন, অলঙ্কার ও সুগন্ধি ফুল দিয়ে রাজসাজে সাজানো হয় মহাকালকে।
এরপর মহাকালের মস্তকে শেষনাগের রুপোর মুকুট, রুপোর মুণ্ডমালা, রুদ্রাক্ষের মালা এবং সুগন্ধি ফুলের মালা অর্পণ করা হয়। মোগরা ও গোলাপ ফুল দিয়েও সাজানো হয় তাঁকে। পরে ফল ও মিষ্টির ভোগ নিবেদন করা হয়। ভস্ম আরতিতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশ নেন এবং মহাকালের দর্শন করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভস্ম অর্পণের পর ভগবান মহাকাল নিরাকার থেকে সাকার রূপে ভক্তদের দর্শন দেন।
পুত্রদা একাদশীর মাহাত্ম্য
শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে পুত্রদা একাদশী পালিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই একাদশী ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশে নিবেদিত। এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি ভগবান শিবের পুজোরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই পবিত্র তিথিতে নিষ্ঠা ও নিয়ম মেনে ব্রত ও পুজো করলে ভগবান শ্রীহরির কৃপা লাভ করা যায়। সন্তানসুখ, সন্তানের মঙ্গল এবং পরিবারের সমৃদ্ধির কামনায় পুত্রদা একাদশীর ব্রত পালন করেন ভক্তরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




