নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট (হি.স.): ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা হাওলা ও বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তরের অভিযোগে গোয়া থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃতরা হলেন ফহিম মইন হুসেন সৈয়দ ও নইম মুইন সৈয়দ। রবিবার অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর আওতায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের গোয়ার বিশেষ পিএমএলএ আদালতে পেশ করা হয়।
সোমবার ইডি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৯ জুন উত্তর গোয়া সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ, গোয়ার এক মহিলাকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে ভয় দেখিয়ে ২১ মে থেকে ২ জুনের মধ্যে তাঁর কাছ থেকে ২.৬০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ একটি তথাকথিত ‘গোপন নজরদারি অ্যাকাউন্টে’ জমা করানো হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারণার টাকা সরাসরি মূল অভিযুক্তদের কাছে না রেখে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রথমে নগদে এবং পরে বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করা হত। এ কাজে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফুল-ফ্লেজড মানি চেঞ্জার সংস্থাগুলিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি ইডির।
ইডির দাবি, প্রতারণার টাকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্ক্রিয় ও সদ্য খোলা অ্যাকাউন্টের প্রথম স্তর পেরিয়ে ৪০০-রও বেশি সুবিধাভোগী অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তদন্তের সূত্র ধরে পণ্য ব্যবসা, বাণিজ্য, ভ্রমণ ও বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে।
তদন্তকারী সংস্থার হিসাবে, ওই সংস্থাগুলির মাধ্যমে মোট ২৭,৮৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যাংকিং লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২,৯০৪ কোটি টাকা নগদে জমা পড়ে। প্রায় ৫৮৪.৭০ কোটি টাকা বিভিন্ন জায়গায় ৬১,৪৪৮টি বাল্ক নোট গ্রহণকারী মেশিনের মাধ্যমে জমা করা হয়েছিল।
ইডি জানিয়েছে, এই সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট নিয়ে দেশের ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৩৩০টি অভিযোগ এবং ১৬৩টি এফআইআর রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই মামলাগুলিতে মোট ৪১৭.৪৯ কোটি টাকার ক্ষতির কথা সামনে এসেছে। ১০১টি ক্ষেত্রে একই প্রতারণার টাকা একই সময়ে নেটওয়ার্কের দুই বা তার বেশি সংস্থায় পৌঁছেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ১৭ জুলাই মুম্বই ও গোয়ায় ২০টি জায়গায় এবং ২১ আগস্ট আরও কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ৩.২৫ কোটি টাকা নগদ, ডিজিটাল ডিভাইস, নথিপত্র এবং বিভিন্ন আইনসঙ্গত রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
ইডির আরও দাবি, প্রতারণার টাকা সরানোর কাজে ব্যবহৃত সংস্থাগুলি আর্থিকভাবে অত্যন্ত সাধারণ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের নামে তৈরি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কর্মী, গাড়িচালক এবং এক কামরার বাড়িতে বসবাসকারী ব্যক্তিরাও ছিলেন। তাঁদের সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে দেখানো হলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্যবসার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ছিল অন্যদের হাতে। মামলায় আরও তদন্ত চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




