বারুইপুর, ২৪ আগস্ট (হি. স.): এক বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতির বিরুদ্ধে। নিহতের নাম বাপি প্রামানিক(৪৫)। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া গ্রামে। রক্তাক্ত অবস্থায় বাপিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় বারুইপুর থানার পুলিশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। যদিও অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মন্ডলের দিকে। অভিযুক্ত পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পুজো কমিটির মিটিংকে কেন্দ্র করে এলাকায় ঝামেলা হচ্ছিল। বাপি সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন। বাদল প্রামানিক নামে এক যুবক তাকে ফোন করে ডাকে। অভিযোগ সেখানে গেলেই বাপির সাথে সুজন ও তার অনুগামীদের বচসা বাধে। সেই সময় বাপিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। কার্যত স্ত্রী পুতুলের সামনেই বাপিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।
পুতুলের দাবি, এলাকায় জমির দালালি থেকে তোলাবাজি সবেতেই সুজন জড়িত ছিল। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে কিছু তৃণমূলের লোকজনকে সাথে নিয়ে সেই তোলাবাজি আরও বাড়িয়েছিল। সেই ঘটনারই প্রতিবাদ করেছিল বাপি। এই অভিযোগে কিছুদিন আগে বিজেপির মন্ডল সভাপতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সুজনকে। এরফলে বাপির উপর আরও রাগ বেড়েছিল তার। আর সেই কারণেই বাপিকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। পুতুল বলেন, তৃণমূলের অত্যাচারে দীর্ঘদিন বাপি ঘরছাড়া ছিল। সরকার পরিবর্তন হতে দীর্ঘদিন বাদে বাড়ি ফিরেছিল। কিন্তু যে তৃণমূলের অত্যাচার এতদিন সহ্য করেছিল, তারাই সুজনের হাত ধরে বিজেপিতে ঢুকে অত্যাচার শুরু করেছিল। এর প্রতিবাদ করতেই ওকে খুন করা হল। দোষীদের শাস্তি চাই।
বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, পুজো কমিটি নিয়ে ঝামেলার জেরে বাপি প্রামানিককে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে রাজনীতির বিষয় রয়েছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা




