মুম্বই, ২৬ আগস্ট (হি.স.): প্রয়াত বলিউডের বর্ষীয়ান পরিচালক কুকু কোহলি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৭ বছর বয়সি এই চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর মৃত্যুতে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নব্বইয়ের দশকে একাধিক জনপ্রিয় ছবি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি অজয় দেবগনের মতো অভিনেতাকে বড় পর্দায় প্রতিষ্ঠার পিছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
অবতার কোহলি নামে জন্ম কুকু কোহলির চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি হয়েছিল রাজ কাপুরের সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রায় ১১ বছর রাজ কাপুরের সঙ্গে কাজ করার সময় ‘ববি’, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’, ‘প্রেম রোগ’-এর মতো ছবির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা খুঁটিনাটি শেখেন।
পরে পরিচালক রাহুল রাওয়েলের সঙ্গে সেকেন্ড ইউনিট পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ‘বেতাব’ ও ‘অর্জুন’-এর মতো ছবির অভিজ্ঞতা তাঁকে স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য তৈরি করে। এরপর ১৯৯১ সালে আসে তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ—‘ফুল অউর কাঁটে’। এই ছবির হাত ধরেই অজয় দেবগনের বলিউডে অভিষেক। ছবিটি সাফল্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অজয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও কুকু কোহলির পরিচিতি তৈরি হয়।
এরপর ‘সুহাগ’-এর মতো সফল ছবি তাঁর ঝুলিতে আসে। অজয় দেবগন ও অক্ষয় কুমারের জুটিকে প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে হাজির করেছিলেন তিনি এই ছবিতেই। এছাড়া ‘হকিকত’, ‘অনাড়ি নম্বর ১’, ‘জুলমি’-সহ একাধিক ছবি পরিচালনা করেছেন কুকু কোহলি।
অ্যাকশন, রোম্যান্স এবং পারিবারিক আবেগকে বিনোদনের মোড়কে পর্দায় তুলে ধরাই ছিল তাঁর ছবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। করণ নাথ ও জিনাত আমান অভিনীত ছবিটির গানও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছিল।
২০০৪ সালে ‘ও তেরা নাম থা’ পরিচালনার পর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র জগতের আড়ালে চলে যান কুকু কোহলি। তবে নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর গোড়ার দিকে তাঁর তৈরি ছবিগুলি আজও হিন্দি সিনেমার সেই সময়ের স্মৃতি বহন করে।
প্রায় চার দশকের চলচ্চিত্র জীবনে সহকারী পরিচালক থেকে সফল পরিচালক হয়ে ওঠা কুকু কোহলির সবচেয়ে বড় অবদানগুলির একটি অবশ্যই অজয় দেবগনকে বড় পর্দায় তুলে ধরা। তাঁর প্রয়াণে বলিউড হারাল এমন এক নির্মাতাকে, যাঁর হাত ধরে একদিকে একাধিক জনপ্রিয় ছবি এসেছে, অন্যদিকে হিন্দি সিনেমা পেয়েছে তার অন্যতম পরিচিত তারকা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




