আগরতলা : : ১৯৯৫ সালে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এনএলএফটি ও এটিটিএফ-এর আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পুনর্বাসন ও প্যাকেজ ঘোষণার দাবিতে এবার রাজ্যপালের দ্বারস্থ হল দুটি সংগঠন। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে চুক্তি অনুযায়ী পুনর্বাসন ও প্যাকেজ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর কাছে ৯ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দিল জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি) এবং জয়েন্ট অ্যাকশন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (জেএআরসি)। অবিলম্বে দাবিগুলি পূরণ করা না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠন দুটি।
জানা গেছে, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৯৫ সালে এনএলএফটি এবং এটিটিএফ-এর বৃহৎ অংশের সদস্যরা অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। আত্মসমর্পণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। ফলে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের একটি বড় অংশ বর্তমানে চরম আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি সংগঠনগুলির।
তাঁদের বক্তব্য, অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার সময় সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। পুনর্বাসন ও প্যাকেজের অভাবে অনেক আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি এবং তাঁদের পরিবার দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে জেএসি এবং জেএআরসি-র পক্ষ থেকে এর আগেও একাধিকবার জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের মতো কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ১৩ আগস্টও সংগঠন দুটি যৌথভাবে জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তবে রাজ্য প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সংগঠনগুলির অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও তাঁদের দাবির বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে এবার তাঁরা তাঁদের দাবির সমাধানের শেষ আশ্রয় হিসেবে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বৃহস্পতিবার জেএসি ও জেএআরসি-র একটি যৌথ প্রতিনিধি দল রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে চুক্তি অনুযায়ী আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পুনর্বাসন, পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিন জেএসি এবং জেএআরসি-র পক্ষ থেকে দুই সংগঠনের আহ্বায়ক ও প্রবক্তা জীবন জয় রিয়াং বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সরকারের কাছে তাঁদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছেন। একাধিকবার আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও প্রশাসনের অনুরোধে তাঁরা তা প্রত্যাহার করেছেন। কিন্তু এবারও যদি তাঁদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা নির্ধারণের জন্য চলতি মাসেই জেএসি ও জেএআরসি-র একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ওই বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না এলে সেখান থেকেই পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পুনর্বাসন ও প্যাকেজের অপেক্ষায় থাকা আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দাবিকে কেন্দ্র করে ফের রাজ্যে আন্দোলনের আবহ তৈরি হচ্ছে। এখন রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





