সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা উদ্যোগে ভুয়ো চিকিৎসক এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ-সহ ক্লিনিক্যাল নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে অস্বস্তির মুখে পড়েছেন।
অভিজিৎ দাস ওরফে ববি, যিনি রাজ্য বিজেপির নেতা এবং দু’বার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন, তিনি বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক এবং তাঁর একাধিক সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁরা ক্লিনিক্যাল নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং ওই শিবিরগুলিতে চিকিৎসা নিতে আসা ও চিকিৎসা পাওয়া হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্যকে বিপদের মুখে ফেলেছেন।
১২ পাতার অভিযোগপত্রে ববি কথিত চিকিৎসাগত অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি এবং ক্লিনিক্যাল নিয়ম লঙ্ঘনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। সেখানে অভিষেক, রায় এবং জাহাঙ্গীর খান, মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ মোল্লা ও বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-সহ অন্তত অর্ধডজন তৃণমূল নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিষেক ২০২৫ সালে তাঁর ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র জুড়ে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির শুরু করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। তবে এই উদ্যোগে সরকারি পরিকাঠামো, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।
প্রথম পর্যায়ের পর সেবাশ্রয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ও আয়োজন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল তাঁর তথাকথিত "ডায়মন্ড হারবার মডেল"-এর প্রচার। এই মডেলে স্থানীয় স্তরের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা ছিল।
সূত্রের দাবি, এই নতুন এফআইআরটি অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আমফান ত্রাণ তহবিলে কথিত অনিয়ম, বেআইনি মাটি উত্তোলন এবং সরকারি আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ।






