নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (হি.স.): পারস্পরিক সম্মতিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গড়ে ওঠা একত্রবাস বা লিভ-ইন সম্পর্কও বিয়ের মতোই। তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দে বাবা-মা কিংবা বন্ধুবান্ধব হস্তক্ষেপ করতে পারেন না, এমনকি তাঁদের জীবনহানির হুমকিও দেওয়া যায় না। একটি লিভ-ইন দম্পতিকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিতে গিয়ে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে এই নির্দেশ দেয়।
আদালত জানিয়েছে, দু’জনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে কারও হস্তক্ষেপ ছাড়াই পছন্দের সঙ্গী বেছে নেওয়া এবং তাঁর সঙ্গে বসবাস করার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। আদালতের বক্তব্য, প্রাপ্তবয়স্ক দু’জনের পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া বিয়েকে তাঁদের জাতি, সম্প্রদায়, বর্ণ, ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে ভিন্নভাবে দেখা যায় না।
আদালত আরও বলেছে, সামাজিক নৈতিকতা বা পূর্বধারণার ভিত্তিতে সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারকে সীমাবদ্ধ করা কোনও ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয় ও স্বাধীনতাকে খর্ব করার শামিল।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী দম্পতি আইনিভাবে বিবাহিত না হলেও তাঁরা দু’জনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতিতে একসঙ্গে বসবাস করছেন। সেই অর্থে তাঁদের লিভ-ইন সম্পর্কও বিয়ের মতোই। ওই দম্পতির বয়স প্রায় ৩০ বছর। তাঁরা আদালতকে জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে একসঙ্গে থাকছেন এবং বিয়েও করতে চান। দম্পতির অভিযোগ, তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তরুণীর বাবা ও ভাই। তাঁদের তরফে বারবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা।




